১.কবুতর পালন
অন্যতম গৃহপালিত পাখিদের মধ্যে কবুতর একটি।কবুতরের মধ্যে প্রোটিনের পরিমান বেশি এবং এর মাংস খেতে খুবই সুস্বাদু। উন্নতজাতের একজোড়া কবুতরের দাম ২হাজার থেকে প্রায় ১লাখ টাকা পর্যন্ত।
বংশবিস্তার এর জন্য কবুতর সাধারনত জোড়ায় থাকে এবং কিনলেও জোড়ায় কিনতে হয়। একটি কবুতর প্রায় ১৫ বছর যাবত জীবিত থাকে। কবুতর সাধারণত ডিম পাড়ার ১৮দিনের মধ্যেই তা দিয়ে বাচ্চা ফুটায়। এক জোড়া কবুতর বছরে ১০জোড়া-১২জোড়া বাচ্চা দেয় এবং ওই বাচ্চা ৬মাসের মধ্যেই ডিম পাড়া শুরু করে।
সুবিধা : কবুতরের রোগ বালাই খুবই কম হয়। কবুতর সহজেই পোষ মানে। বাচ্চা সাধারণত ১মাসের মধ্যেই খাওয়া এবং বিক্রির জন্য উপযোগী হয়। ছেড়ে পালন করলে অর্থাৎ মুক্ত ভাবে পালন করলে খাবার খরচ খুবই কম হয়। কম সময়ে লাভবান হওয়া যায়।কবুতরের মাংসে পুষ্টিগুণ খুবই বেশি তাই কবুতরের বাচ্চা অনেকে খাওয়ার জন্য নিয়ে যায়। সব চেয়ে সুবিধার কথা হলো কবুতর পালনে অতিরিক্ত কোন খরচ হয় না। কারন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কবুতর নিজের খাবার নিজেই জোগাড় করে থাকে। বাড়ির ছাদে, বারান্দায় অথবা জানালার তাক এই ধরনের ছোট-খাটো জায়গায় বাস্থান স্থাপন করে কবুতর পালন করা যায়। কবুতরের মাংস মানব শরীরের জন্য খুবই উপকারী কেননা বিশেষজ্ঞদের মতে কবুতরের মাংসে অনান্য মাংসের তুলনায় প্রটিনের পরিমান বেশি। একজোড়া ভালো জাতের কবুতর পালন করলে বছর শেষে কয়েক জোড়া কবুতর পাওয়া অভাক হওয়ার মত কিছু নয়। হাসঁ-মুরগীর তুলনায় কবুতর পালনে খরচ খুবই কম এবং নিদিষ্ট জায়গায় সীমিত সাথে অল্প জায়গায় কবুতর পালন করা জায়।
এই কবুতর পালন কে আপনি ব্যবসা হিসেবে ধরে নিলে এটি খুবই লাভজনক একটি ব্যবসা। কবুতর পালনে অল্প সময়ের মধ্যে লাভবান হওয়া যায়।
প্রস্তুত প্রনালি : কবুতরের ঘর সাধারণত উঁচু ও শুষ্ক স্থানে হতে হবে। ঘর ততটাই উচু করবেন যতটা উচু করলে কুকুর,বিড়াল,ইদুর ইত্যাদি ধরনের প্রানীর নাগাল থেকে দূরে থাকে। প্রতি জোড়া কবুতরের জন্য আলাদা ঘর থাকা উচিত। অবশ্যই ঘরে সূর্যের আলো প্রবেশ করে এমন স্থানে হতে হবে।
যোগ্যতা : বিশেষ কোন যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। কবুতর পালনে সামান্য ধারণা নিতে হবে।
----------------------- ----------------------- -----------------------
২.পাখি পালন
প্রয়োজনীয় পুজি : ৭০-৮০হাজার টাকা। (পাখির খাচাঁ,পাখি,পাখির জন্য খাবার, ইত্যাদি সব মিলেয়ে)
কিছু সুবিধা : পাখি পালন মোটামুটি সবারই ভালো লাগে।কম খরচে অধিক লাভবান হওয়া জায়।এছাড়া পাখি সাধারণত ছোট বড় যে কাউকে উপহার হিসেবে দেওয়া যায়।পাখি খুব সহজেই পোষ মানে। মানুষ এমনিতেই পোষা প্রানিদের খুব ভালোবাসে আর যদি সেটা পাখি হয় তাহলে তও কোন কথাই নেই। পাখি পালন করে অল্প পুজিতেই স্বাবলম্বী হওয়া যায়।
পালন পদ্ধতি : বাড়ির বারান্দায় কিংবা ছাদে পাখির বাস্থান অর্থাৎ খাচাঁ তৈরি করতে পারেন।অবশ্যই আলো বাতাস আসে এমন স্থানে পাখির বাস্থান তৈরি করতে হবে। খেয়াল রাখবেন যেনো পাখির বাস্থান শুস্ক থাকে। সব পাখি এক ধরনের হয় না তাই পাখির ধরন বুঝে খাচাঁ কিনতে বা বানাতে হবে। পাখির ধরন বলতে যেমন কবুতর, টিয়া,লাভবার্ড, ককটেল,কাকতাড়-য়া,কোয়েল ইত্যাদি। এদের মধ্যে অনেক পাখি অতি তাড়াতাড়ি বাচ্চা দেয় যেমন কবুতর।কবুতর বছরে প্রায় ১২ জোড়া বাচ্চা জন্ম দেয়। পাখির চাহিদা অনুযায়ী পাখিদের খাবার দিতে হবে। যেমন সরিষা,কুসুম ফুলের বিচি ইত্যাদি।
বাজারজাত কিভাবে করবেন : বিভিন্ন জায়গার মানুষেরা এগুলা কিনে নেয়। পাখি পালন করলে সাধারণত মানুষেরা নিজেই এগুলা কিনতে আছে। আত্নীয়, বন্ধুরা এগুলা কিনতে আসবে। পাখি সখের বসে সবাই কিনতে আছে। তাই বিক্রি নিয়ে চিন্তার কোন কারন নেই।
যোগ্যতা : পাখি পালনে আহামরি কোন যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। সামান্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে পাখি পালনে।
________________________________________
------------------------------------------------------------------
৩.কোয়েল পাখির ব্যবসা করে বছরে আয় করুন প্রায় ২ লাখ টাকা।
পুঁজি : ১০হাজার টাকা থেকে ৩০হাজার টাকা পর্যন্ত (প্রায়) নিয়ে আপনার কোয়েল পাখির ব্যবসাটি শুরু করলে ভালো হয়।
পালন পদ্ধতি : কোয়েল সাধারণত খাঁচায় পালন করা সবচেয়ে উওম।এবং খাঁচার দৈর্ঘ্য হতে হবে ১৪০ সেন্টিমিটার প্রায় (এর চেয়ে সামান্য কম বা বেশি হলেও চলবে)।এর প্রস্থ ৪০ সেন্টিমিটার (এর চেয়ে সামান্য কম বা বেশি হলেও চলবে) এবং উচ্চতা কমপক্ষে ২৫ সেন্টিমিটার হতে হবে। এ ধরনের একটি খাঁচায় প্রায় ৮০-৯০ টি কোয়েল পাখি পালন করা যায়। কোয়েল পাখি পালনে একটি খাঁচার উপর একাধিক খাঁচা স্থাপন করা যায়। পানি এবং খাবার খাঁচার ভেতরেই রাখতে হবে কোয়েল পাখির জন্য। যাইহোক কোয়েল পাখির খাঁচা শুকনো খারা অনেক জরুরি। সেদিকে সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখতে হবে।
লাভ : একটি কোয়েল বছরে দিম দেয় প্রায় ২৮০ টি যদি ভালো জাতের হয়। এবং প্রতিদিন ডিম থেকেই বাচ্চা উৎপাদিত হয়।
কোয়েল পাখির বাচ্চা ডিম থেকে ফোটার ৪০-৪৫ দিনের মধ্যেই বিক্রির জন্য যোগ্য হয়। ৫০ টি কোয়েল পাখি নিয়ে একটি খামার তৈরি করলে বছরে প্রায় ২লাখ টাকা আয় হয়।
সুবিধা : কোয়েল পাখি পালনে খরচ খুবই কম। এতে কোন ঝুকি নেই কারন এদের রোগ বালাই খুব কম হয়।
বাজারজাতকরন : বাজারে অনেক খুচরা বিক্রেতা রয়েছে। তাদের কাছে পাইকারি ধরে বাচ্চা এবং ডিম বিক্রি করতে পারেন। রোগীদের জন্য অনেকে কোয়েল পাখির বাচ্চা কিনে নিয়ে যায়। কোয়েল পাখি রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। তাই বাজারে এদের চাহিদা খুবই বেশি।
যোগ্যতা : এতে বিশেষ কোন যোগ্যতার প্রয়োজন নেই শুধু মাএ কোয়েল পাখি পালনের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এটা এতোটা কঠিন কিছু নয়।
___________________________________
৪.পোলট্রি মুরগীর খামারের চিন্তা করছেন?
👉আপনি যদি ১,৫০০মুরগি এক সাথে পালন করেন। আপনি ডিলারের সাথে যোগাযোগ করে এই মুরগি আনতে পারেন। ডিলারের থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পেতে পারেন।যেকোন সমস্যার কথা ডিলারের সাথে শেয়ার করতে পারেন।
👉👉স্থান কেমন হওয়া উচিত : প্রথমে একটি ব্র..ডার করতে হবে। একদিনের বাচ্চার জন্য একটি ঘের তৈরি করতে হবে। মুরগীর গা গরম রাখার জন্য ব্র,,ডার তৈরি করতে হবে। সেই ব্র,,ডারে লাল আলোর লাইট ব্যবহার করতে হবে প্রায় ২,০০০ ওয়াট শক্তিশালী । খামারটি ৩-৪ ইঞ্চি পরিমান বালি অথবা কাঠের গুড়া দিয়ে উচু করতে হবে জেন মুরগীর কোন রোগে আক্রান্ত না হয়। কাঠের গুড়া হলে বেশি ভালো হয়। অবশ্যই বালি /কাঠের গুড়া গুলু ভিজতে দেওয়া যাবে না। পেপার/কাগজ বিছিয়ে ৩ দিন ছোট বাচ্চা গুলাকে রাখতে হবে।তার পর পেপার/কাগজ তুলে নিতে হবে। মরগী বড় হওয়ার পাশাপাশি ব্র..ডারও বড় করতে হবে। ডিলারের মতামত জেনে যতটুকু স্থান সে অনুজায়ী মুরগী আনতে হবে।কম জায়গায় বেশি মুরগি তোলা বিপদ জনক হতে পারে। মানে মৃত সংখ্যা বাড়তে হবে।
👉👉সময় : এই মুরগী ৩০-৩২ দিন এর বেশি সময় রাখবেন না। সম্ভব হলে ৩০ দিনের মধ্যেই বিক্রি (sell) করে দিবেন।
-----------------------
👉👉খরচ : খাদ্য ও পানি দেওয়ার পাএ কতটি লাগবে জায়গা অনুযায়ী ডিলারের সাথে যোগাযোগ করে কিনতে হবে। ইচ্ছা করতে কোন চালান ছাড়াই ডিলারের থেকে মুরগির বাচ্চা আনতে পারেন (পরে হিসাব করে লাভ লোকসান বলা হবে)। ১,৫০০ মুরগির জন্য প্রায় ৫৫-৬০ বস্তা লাগবে (মুরগি ছোট অবস্থায় ছোট মাপের খাবার এবং বড় অবস্থায় বড় মাপের খাবার)
👉👉প্রতিটা বাচ্চার দাম ৪০(প্রায়) টাকা হলে ১৫০০টার দাম (১৫০০*৪০) ৬০,০০০ টাকা।
-----------------------
👉👉ওষুধ : ১০,০০০টাকা প্রায়।
খাদ্য প্রতিবস্তা ২,৫০০টাকা প্রায়। তাহলে ৬০ বস্তা খাদ্যের দাম (২,২৫০*৬০)১৩৫,০০০ টাকা।
-----------------------
✌👉তাহলে সবমিলিয়ে খরচ (৬০,০০০+১০,০০০+১৩৫,০০০)২০৫,০০০ টাকা।
-----------------------
👉👉লাভ : পতিটি মুরগির ওজন প্রায় ১.৬০০-২.০০০kg হয়।ধরা যাক প্রায় ১০০ মুরগি মারা গেছে। আর গড় ওজন ১.৭০০kg পাইকারি দাম প্রতি কেজি ১১০ টাকা হলে প্রতিটি মুরগির দাম ১,৮৭ টাকা।
-----------------------
✌👉মোট বিক্রি : ১৪,০০*১,৮৭=২৬১,৮০০টাকা
-----------------------
✌👌মোট লাভ : (মোট বিক্রি-মোট খরচ)২৬১,৮০০-২০৫,০০০=৫৬,৮০০ টাকা (প্রায়)
👉👉যোগ্যতা : পোলট্রি পালনে প্রশিক্ষণ নিতে হবে আর আপনার বিশেষ আগ্রহ থাকতে হবে।
No comments:
Post a Comment